ঢাকা, বাংলাদেশ – ২০২৫-২০২৬ করবর্ষকে লক্ষ্য করে বাংলাদেশের আয়কর রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থায় এক বিশাল পরিবর্তন এনেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অধিকাংশ ব্যক্তিগত করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা কার্যকর হয়েছে ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখ থেকে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, করদাতাদের হয়রানি কমানো এবং করসেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যেই এনবিআর এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতাকে এই বাধ্যতামূলক অনলাইন দাখিলের আওতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারা চাইলে এখনও কাগজের মাধ্যমে (অফলাইন) রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন:
- প্রবীণ নাগরিক (৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী)
- শারীরিক প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন করদাতা (প্রমাণপত্র সাপেক্ষে)
- বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক
- মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক দাখিলকৃত রিটার্ন
- বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকগণ।
মূল পরিবর্তন ও হালনাগাদ তথ্য:
১. বাধ্যতামূলক অনলাইন দাখিল: অধিকাংশ ব্যক্তিগত করদাতার জন্য এনবিআর-এর অফিসিয়াল ই-রিটার্ন প্ল্যাটফর্ম (www.etaxnbr.gov.bd) এর মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। তবে, যারা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করতে অক্ষম, তারা ৩১ অক্টোবর ২০২৫ এর মধ্যে যথাযথ কারণ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনারের কাছে আবেদন করলে, অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে কাগজের মাধ্যমে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
২. কর প্রতিনিধিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা (TRMS): করদাতাদের পক্ষে অনুমোদিত কর প্রতিনিধিদের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য এনবিআর ট্যাক্স রিপ্রেজেন্টেটিভ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (TRMS) নামে একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে।
৩. ব্যাংক তথ্যে সরাসরি প্রবেশাধিকারের উদ্যোগ: কর ফাঁকি রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এনবিআর অনলাইনে রিটার্ন দাখিলকারী করদাতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরাসরি প্রবেশাধিকার চেয়ে চিঠি দিয়েছে। এটি কর প্রশাসনে আরও কঠোর নজরদারির ইঙ্গিত দেয়।
৪. রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা: ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের স্বাভাবিক সময়সীমা সাধারণত আয়বর্ষ শেষ হওয়ার পর ৩০ নভেম্বর থাকে। তবে, এনবিআর বিভিন্ন সময়ে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করে থাকে। করদাতাদের উচিত হবে জরিমানা এড়াতে এনবিআর-এর সর্বশেষ সময়সীমার ঘোষণা অনুসরণ করা।
৫. কর হার ও সীমার প্রস্তাবিত পরিবর্তন (অর্থ অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী): অর্থ অধ্যাদেশ ২০২৫-এ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে:
- সাধারণ ব্যক্তিগত করদাতার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ২০২৫-২০২৬ মূল্যায়ন বছরের জন্য ৩,৫০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- নতুন করদাতাদের জন্য ন্যূনতম আয়কর ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- বিদেশে থাকা সম্পদ গোপন করার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতা অনিবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রসারিত করা হয়েছে।
এই ডিজিটাল পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের কর ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং করের আওতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। করদাতাদের সুবিধার জন্য এনবিআর তাদের কল সেন্টার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক চ্যানেলের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করছে।


