আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে যেসব তথ্য প্রকাশ করতে হয়, তা স্টক এক্সচেঞ্জকে প্রদানে পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কাগুজে নথি প্রদান বন্ধ করে শুধু ‘স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম’ (এসএসএস) নামে এ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেছে স্টক এক্সচেঞ্জটি।
গতকাল বুধবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সিস্টেমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন। অনুষ্ঠানে ডিএসই, সিএসই, বিএসইসি, অর্থ মন্ত্রণালয়, ডিবিএ, আইসিএবি, এফআরসি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসই কর্মকর্তারা জানান, নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ব্যবহার করে ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম চালু করা হয়। ধাপে ধাপে এ প্ল্যাটফর্ম দেশের পুঁজিবাজারে রিয়েল-টাইম, নিরাপদ ও পুরোপুরি ডিজিটাল নথি জমার পরিবেশ তৈরি করেছে। নতুন দুই মডিউল যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে ডিএসই-সিএসই উভয় এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সাবমিশন হবে একই প্ল্যাটফর্মে এবং সম্পূর্ণ অনলাইনে।
ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে মূল্যসংবেদনশীল তথ্য, রেগুলেটরি রিপোর্ট, আর্থিক বিবরণীসহ সব ধরনের নথি পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে জমা দেওয়া যাবে। ফলে কাগুজে প্রিন্ট নথি জমা ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল হলো। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সাবমিশন গেটওয়ে চালুর মাধ্যমে নথি জট, সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা হবে নিরাপদ, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব।
ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুর রহমান জানান, ডিএসইর ডিজিটাল সক্ষমতা গত কয়েক বছরে ধাপে ধাপে শক্তিশালী হয়েছে। চায়নিজ কনসোর্টিয়ামের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পুরো সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে।
ডিএসইর সিটিও ড. মো. আসিফুর রহমান জানান, নতুন প্ল্যাটফর্ম স্টেকহোল্ডারদের জন্য হবে ‘একক ডিজিটাল সাবমিশন পয়েন্ট’, যা ম্যানুয়াল ঝুঁকি কমাবে এবং প্রশাসনিক বোঝা হ্রাস করবে।
তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বিএপিএলসির নির্বাহী কমিটির সদস্য কায়ছার হামিদ বলেন, দীর্ঘদিনের ম্যানুয়াল ও দ্বৈত সাবমিশনের জট থেকে কোম্পানিগুলো মুক্তি পেল।


